Tuesday, 18 August 2015

বিধেয়ক, বিধেয় ও বিধেয়ক, জাতি ও উপজাতি, বিভেদক লক্ষণ, উপলক্ষণ, অবান্তর লক্ষণ

পাঠের শিরোনাম: বিধেয়ক কি?

ভূমিকাঃ যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত পদদ্বয়ের মধ্যে সম্পর্ক কি তা স্পষ্ট করতে যুক্তিবিদ্যায় বিধেয়ক সম্পকীত আলোচনা করা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে যুক্তিবিদ্যার জনক এ্যারিস্টটল প্রথম আলোচনার সূত্রপাত করেন। তিনি উদ্দেশ্য পদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে বিধেয় পদের যে পরিচয় তুলে ধরেছেন তা যুক্তিবিদ্যায় ‘বিধেয়ক’ নামে পরিচিত।

বিধেয়কের সংজ্ঞাঃ যুক্তিবিদ এ্যারিস্টটল একটা যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদের সাধে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে সে সম্পর্কসমূহকে বিধেয়ক বলে অভিয়িত করেছেন। কিন্তু লক্ষ্যনীয় যে নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদের সাথে বিধেয় পদের কোন সম্পর্ক থাকে না বলে নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না। এবং কোন যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ বিশিষ্ট পদ হলে সে ক্ষেত্রে বিধেয়ক থাকে না। সে ভিত্তিতে বলা যায় যে, শ্রেণীবাচক বিধেয় পদ সম্বলিত কোন সদর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক হতে পারে, সে সম্পর্কসমূহকে বিধেয়ক বলে। 
যেমনঃ মানুষ হয় মরণশীল। এ যুক্তিবাক্যে ‘মানুষ’ পদটি হচ্ছে উদ্দেশ্য এবং ‘মরণশীল’ পদটি হচ্ছে বিধেয়। আর ‘মানুষ’ পদের সাথে ‘মরণশীল’ পদের যে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান তার নাম বিধেয়ক।
এ প্রসঙ্গে লাট্টা ও ম্যাকবেথ বলেছেন “বিধেয়ককে সংজ্ঞায়িত করা যায় একটি সদর্থক যুক্তিবাক্যের সম্ভবপর বিধেয় হিসাবে ব্যবহৃত সাধারণ পদসমুহের শ্রেণীবিভাগ হিসাবে, যে শ্রেণীবিভাগের ভিত্তি হচ্ছে উদ্দেশ্যের সাথে তাদের সম্পর্ক।
 
 উপসংহারঃ বিধেয়ক হলো পদ দ্বয়ের মধ্যের সম্পর্কের নাম যা উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যেকার সম্পর্ক স্পষ্ট করে তোলে।  

 

পাঠের শিরোনাম: বিধেয় ও বিধেয়কের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।


ভূমিকাঃ বিধেয় ও বিধেয়কের মাঝে কিছু শাব্দিক সাদৃশ্য থাকলেও উভয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। নিম্নে উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়গুলো আলোচনা করা হল- 

বিধেয় ও বিধেয়কের মধ্যে পার্থক্যঃ
১. যে পদ দ্বারা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোন কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বিধেয় বলে। যেমন- ‘সব ঘোড়া হয় প্রাণী’-  বাক্যে ‘প্রাণী’ পদ ‘ঘোড়া’ পদকে স্বীকার করেছে। এক্ষেত্রে ‘প্রাণী’ পদ বিধেয়। পক্ষান্তরে, উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়ের যে সম্পর্ক তাকেই বলে বিধেয়ক।,যেমন- ‘সব ঘোড়া হয় প্রাণী’- যুক্তিবাক্যে ‘প্রাণী’ পদের ব্যক্ত্যর্থ ‘ঘোড়া’ পদের তুলনায় অধিক। সে হিসাবে ‘প্রাণী’ ও ‘ঘোড়া’ পদের মাঝে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা-ই হল বিধেয়ক। সুতরাং বিধেয় ও বিধেয়ক এক জিনিষ নয়।
২. বিধেয় একটি পদ। এটি হচ্ছে যুক্তিবাক্যের একটি অংশ যা কোন সময় একটি শব্দ দ্বারা বা একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পক্ষান্তরে, বিধেয়ক কোন পদ নয়। বিধেয়ক একটি সম্পর্কের নাম। বিধেয়ক কোন পদ নয় বলে তা কোন শব্দ বা শব্দ সমষ্টি দ্বারা গঠিত নয়।
৩. সদর্থক হোক আর নঞর্থক হোক যে কোন যুক্তিবাক্যেই উদ্দেশ্য যেমন থাকে তেমনি বিধেয় থাকে। পক্ষান্তরে, বিধেয়কের অস্তিত্ব কেবলমাত্র সদর্থক যুক্তিবাক্যে সম্ভব। নঞর্থক যুক্তিবাক্যে যেহেতু উদ্দেশ্য পদের সাথে বিধেয় পদের সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয় সেহেতু এরূপ যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না।
৪. যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ বিশিষ্ট পদ হতে পারে। কিন্তু যেসব যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ বিশিষ্ট পদ, সেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয়কের প্রশ্ন উঠে না। কেননা, একটি বিশিষ্ট পদ অসংখ্য গুন নির্দেশ করার কারণে এরূপ পদ সম্বলিত কোন যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়ের কোন সম্পর্ক নির্ণয় করা য়ায় না। পক্ষান্তরে, শ্রেণীবাচক বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের সম্পর্ক থাকে বা বিধেয়ক থাকে।



উপসংহারঃ বিধেয় একটি পদের নাম হলেও বিধেয়ক কোন পদের নাম নয়। বরং তা উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যেকার সম্পর্কের নাম।



পাঠের শিরোনাম: জাতি ও উপজাতি ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকাঃ জাতি ও উপজাতি উভয়ই শ্রেণীবাচক পদ এবং তা সাপেক্ষ পদও বটে। এদের একটিকে বাদ দিয়ে অপরটির কোন অর্থই হয় না।

জাতি ও উপজাতিঃ  যুক্তিবিদ পরফিরি এ্যারিষ্টটলীয় বিধেয়কের তালিকা সংশোধন করে পাঁচ প্রকার বিধেয়কের কথা বলেছেন। যথাঃ জাতি, উপজাতি, বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ, উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ। নিম্নে জাতি, উপজাতি সর্ম্পকে আলোচনা করা হল-

জাতিঃ জাতি একটি শ্রেণীবাচক পদ। তবে যে কোন শ্রেণীবাচক পদকে জাতি বলা যায় না। কেননা, কোন শ্রেণীকে জাতি বলার অর্থ হলো তা অন্য এক বা একাধীক শ্রেণীর তুলনায় জাতি। এ কারণেই জাতির সংজ্ঞায় বলা হয়, কোন সদর্থক যুক্তিবাক্যে দুটি শ্রেণীবাচক পদের মাঝে যদি এমন সম্পর্ক থাকে যে, তাদের একটির ব্যক্ত্যর্থ তুলনামূলকভাবে বেশী, আর বেশী ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণী কম ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণীকে অর্ন্তভূক্ত করতে পারে, তাহলে অধিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণী কম ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণীর জাতি বলে বিবেচিত হবে।
জাতি প্রসঙ্গে যুক্তিবিদ শাস্ত্রি বলেন, “জাতি হচ্ছে একটি বৃহত্তর শ্রেণী যা তার অধিনস্থ কয়েকটি ক্ষুদ্রতর শ্রেণীর সাথে সম্পর্কের দিক দিয়ে বিবেচিত হয়; অন্য কথায়, জাতি হচ্ছে সংকীর্ণতর শ্রেণী সমূহের দ্বারা গঠিত একটি ব্যাপকতর শ্রেণী।”
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ ‘সকল মানুষ হয় জীব’- যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ‘মানুষ’ এবং বিধেয় ‘জীব’ পদ দুটি শ্রেণীবাচক পদ। তবে এদের মধ্যে ‘জীব’ পদের ব্যক্ত্যর্থ ‘মানুষ’ পদের ব্যক্ত্যর্থের তুলনায় বেশী। সে হিসাবে ‘জীব’ পদ ‘মানুষ’ পদকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ‘জীব’ পদটি হচ্ছে ‘মানুষ’ পদের জাতি।

 
উপজাতিঃ উপজাতি একটা শ্রেণীবাচক পদ। তবে কোন শ্রেণীকে উপজাতি বলার অর্থ হলো অন্য কোন জাতির তুলনায় উপজাতি রূপে বিবেচনা করা। এ জন্যই উপজাতির সংজ্ঞায় বলা হয়, কোন সদর্থক যুক্তিবাক্যে দুটি শ্রেণীবাচক পদের মাঝে যদি এমন সম্পর্ক থাকে যে, তাদের একটার ব্যক্ত্যর্থ তুলনামূলকভাবে কম, আর কম ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণী অধিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তাহলে কম ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণী অধিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পন্ন শ্রেণীর উপজাতি বলে বিবেচিত হবে। 
উপজাতি সম্পর্কে যুক্তিবিদ শাস্ত্রী বলেন, “উপজাতি হচ্ছে একটি ক্ষুদ্রতর শ্রেণী যা অন্তর্ভুক্ত হয় এমন কোন বৃহত্তর শ্রেণীর সাথে সম্পর্কের দিক দিয়ে বিবেচিত হয়; অন্য কথায় উপজাতি হচ্ছে জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি সংকীর্ণতর শ্রেণী।” 
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ ‘সকল বাঙালি হয় মানুষ’ – যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ‘বাঙালি’ এবং বিধেয় ‘মানুষ’ পদ দুটি শ্রেণীবাচক পদ। তবে এ দুটি পদের মধ্যে ‘বাঙালি’ পদের ব্যক্ত্যর্থ কম, আর ‘মানুষ’ পদের ব্যক্ত্যর্থ বেশী। সে হিসাবে ‘বাঙালি’ শ্রেণী ‘মানুষ’ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে ‘বাঙালি’ পদ হলো ‘মানুষ’ পদের উপজাতি।
উপসংহারঃ জাতি ও উপজাতি সর্ম্পকে পরিশেষে একথা বলা যায় যে, জাতি একটি শ্রেণীবাচক বড় ধারনা এবং উপজাতি তার অন্তরগত ছোট ধারনা।


পাঠের শিরোনাম: বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ বলতে কী বোঝ?
ভূমিকাঃ বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ হল এমন কিছু গুণাবলী যা অপরাপর উপজাতি হতে একটি উপজাতিকে পৃথক করে।

বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণঃ যে গুণ বা গুণাবলী একই জাতির অন্তরভূক্ত একটি উপজাতিকে অপরাপর উপজাতি থেকে পৃথক করে সে গুণ বা গুণাবলীকে উপজাতিটির লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ বলা হয়। যুক্তিবিদ মেলোন বলেন, “একটি লক্ষণ হচ্ছে সেই গুণ বা গুণ সমষ্টি যার দ্বারা একই জাতির অন্তরভূক্ত একটি উপজাতিকে অপরাপর থেকে পৃথক করা হয়।” 
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ প্রাণী জাতির অন্তরগত উপজাতিসমূহ হল মানুষ, ঘোড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি। এসব উপজাতির মধ্যে ‘প্রাণীত্ব বা জীববৃত্তি’ সাধারণভাবে উপস্থিত থাকলেও, কেবল মানুষ উপজাতির ক্ষেত্রেই ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ রয়েছে। ফলে ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ মানুষকে সমজাতিয় উপজাতিসমূহ থেকে পৃথক ও বিশিষ্ট করে রেখেছে। তাই বুদ্ধিবৃত্তি হল মানুষ উপজাতির লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ।
উপসংহারঃ বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ সব সময় জাত্যর্থ বা তার অংশ বিশেষ হয় যা অপরাপর উপজাতি হতে একটি উপজাতিকে পৃথক করে।



পাঠের শিরোনাম: উপলক্ষণ ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকাঃ যুক্তিবিদ পরফিরির সংশোধীত তালিকা মতে বিধেয়ক পাঁচ প্রকার। তার মধ্যে উপলক্ষণ অন্যতম।
 
উপলক্ষণঃ যে গুণ কোন একটা পদের জাত্যর্থ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্য়ভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। যুক্তিবিদ ল্যাটা ও ম্যাকবেথ বলেন, “একটি উপলক্ষণ হচ্ছে সেই গুণ যা কোন পদের জাত্যর্থের অংশবিশেষ রূপে গঠিত নয়, কিন্তু যা হয় কারণ থেকে কার্ষরূপে অথবা আশ্রয়বাক্য থেকে সিন্ধান্তরূপে জাত্যর্থ হতে নিঃসৃত হয়।”
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ ‘সব মানুষ হয় চিন্তাশীল প্রাণী’- বাক্যে মানুষ শ্রেণীর ক্ষেত্রে ‘চিন্তাশীলতা’ অন্যতম উপলক্ষণ। চিন্তাশীলতা গুনটি মানুষ পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু মানুষের জাত্যর্থ ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ থেকেই গুনটি উদ্ভূত হয়েছে। উপলক্ষণ দু’প্রকারের হতে পারে। যথাঃ ( ক ) জাতিগত উপলক্ষণ ( খ ) উপজতিগত উপলক্ষণ।

( ক ) জাতিগত উপলক্ষণঃ যখন কোন পদের উপলক্ষণ তার জাতির জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত হয় তখন তাকে জাতিগত উপলক্ষণ বলে। যেমনঃ মানুষের ‘মরণশীলতা’ গুণটি মানুষের জাতি জীব- এর জাত্যর্থ ‘জীববৃত্তি’ থেকে নিঃসৃত। কারণ যেখানেই জীবন আছে, সেখানেই মৃত্যু আছে।
( খ ) উপজাতিগত উপলক্ষণঃ যখন কোন পদের উপলক্ষণ উপজাতির নিজস্ব জাত্যর্থ বা লক্ষণ থেকে নিঃসৃত হয় তখন তাকে উপজাতিগত উপলক্ষণ বলে। যেমনঃ মানুষের ‘বিচারশক্তি’ গুণটি মানুষের লক্ষণ ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ থেকে নিঃসৃত। কেননা বুদ্ধিবৃত্তি আছে বলেই মানুষের মধ্যে বিচারশক্তি গুণের আবির্ভাব ঘটেছে।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, উপলক্ষণ পদের জ‌াত্যর্থের সরাসরি অংশ না হলেও তা জাত্যর্থ থেকেই অনুমিত হয়।


পাঠের শিরোনাম: অবান্তর লক্ষণ ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকাঃ যে বৈশিষ্ট কোন শ্রেণীর জাত্যর্থ নয় বা জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও নয় তাই অবান্তর লক্ষণ। 
অবান্তর লক্ষণঃ যে গুণ বা গুণাবলী কোন পদের জ্যাত্যর্থের অংশ নয় অথবা জাত্যর্থ থেকে অনুসৃত নয় অথচ কোন ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান থাকে তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে।
যুক্তিবিদ ল্যাটা ও ম্যাকবেথ বলেন, “একটি অবান্তর লক্ষণ হচ্ছে সেই গুণ যা কোন পদের জ্যাত্যর্থের অংশও নয়, অথবা তার জ্যাত্যর্থের সাথে অনিবার্যরূপে সম্পর্কযুক্ত নয়।”
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ ‘হাস্রপ্রিয়’ গুণটি মানুষ পদের একটি অবান্তর লক্ষণ। এ গুণটি মানুষের জাত্যর্থও নয় আবার জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূত নয়। মানুষ পদের জাত্যর্থ – জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি-এর সাথে ‘হাস্রপ্রিয়’ গুণটির কোন কার্ষকারণ সম্পর্ক নেই।
যেমন হতে পারে কোন ব্যক্তি বিশেষের গুণ বা কোন জাতি বিশেষের গুণ। আবার ক্ষেত্র বিশেষে তা হতে পারে বিচ্ছেদ্য বা অবিচ্ছেদ্য । কাজেই অবান্তর লক্ষণ মোটামুটি চার প্রকারের। যথা- (১) ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণঃ যে অবান্তর লক্ষণ কোন ব্যক্তি বিশেষের বেলায় সর্বদায় বর্তমান এবং কোনভাবেই পরিবর্তন করা যায় না তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- কোন ব্যক্তির জন্মস্থান ও জন্ম তারিখ।
(২) ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণঃ যে অবান্তর লক্ষণ কোন ব্যক্তি বিশেষের বেলায় সর্বদায় বর্তমান থাকে না এবং যা মাঝে মাঝেই পরিবর্তিত হতে পারে তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমনঃ কোন ব্যক্তির পোষাক, আচার-ব্যবহার, জীবিকা ইত্যাদি।
(৩) জাতিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণঃ যে অবান্তর লক্ষণ কোন জাতির অন্তর্গত সকলের ক্ষেত্রেই বর্তমান তাকে জাতিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- মানুষ জাতির ক্ষেত্রে ‘দ্বি-পদ’ গুণ।
(৪) জাতিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণঃ যে অবান্তর লক্ষণ কোন জাতির অন্তর্গত সকলের ক্ষেত্রেই বর্তমান নয় তাকে জাতিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন- ফুলের বেলায় ‘লাল রঙ’।

উপসংহারঃ অবান্তর লক্ষণ যেহেতু জাত্যর্থ থেকে আসে না তাই এটি একটি পদ সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে।

সহায়ক গ্রন্হাবলীঃ
১. উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্য- ১ম পত্র (অবরোহ)
শরীফ হারুন
২. উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (অবরোহ)
প্রফেসর মোঃ গোলাম মোস্তফা
৩. উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (অবরোহ)
প্রফেসর মোহাম্মদ নূরনবী।

বিঃ দ্রঃ- উক্ত পাঠে কোন রকম ভূল-ভ্রান্তি এবং অসঙ্গতি দেখলে অবশ্যই তা মন্ন্তব্যের ঘরে মন্তব্য করে জানাবেন।

 বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার : http://www.kamdc.com

যৌক্তিক সংজ্ঞা, চক্রক সংজ্ঞা, সংজ্ঞার সীমা, সংজ্ঞা ও বর্ণনা

পাঠের শিরোনাম: যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে?
ভূমিকাঃ যুক্তিবিদ্যায় যুক্তিকে যথার্থরূপে প্রয়োগ করার প্রয়োজনে যুক্তিবাক্যের অন্তরগত পদদ্বয়ের অর্থ সুনিদিষ্ট ও সুস্পষ্ট হওয়া আবশ্যক। আর পদের সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের জন্যই যৌক্তিক সংজ্ঞা সম্পর্কিত আলোচনা গুরুত্বপূণ। কেননা, যৌক্তিক সংজ্ঞার অর্থ হল পদের সংজ্ঞা।

যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে?
যৌক্তিক সংজ্ঞার অর্থ হল, একটা পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে সূস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা। সংজ্ঞাদানের উদ্দেশ্য হলো কোন পদের অর্থকে পরিস্কারভাবে ব্যক্ত করা। যুক্তিবিদ্যায় একমাত্র জাত্যর্থ প্রকাশের মাধ্যমেই পদের অর্থকে ব্যক্ত করা হয়। আমরা জানি যে, একটি পদের জাত্যর্থ তার সাধারণ ও আবশ্যকীয় গুণ বা গুণসমূহ দ্বারা গঠিত হয়। সুতরাং একটি বাক্যের মাধ্যমে ঐরূপ গুণ বা গুণসমূহের সুস্পষ্ট উল্লেখকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। তাই যুক্তিবিদ ওয়েলটন বলেন যে, “একটা পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থকে সূস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করাই হল যৌক্তিক সংজ্ঞা।”
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ  ‘মানুষ’ পদের সংজ্ঞায় বলা হয়, ‘সব মানুষ হল বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন জীব।’ কেননা, মানুষ পদের জাত্যর্থ হল বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি। মানুষের মধ্যে আরও কতকগুলো সাধারণ গুণ যেমন- হাসি, কান্না, ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি বর্তমান আছে। তবে এগুলি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এগুলো হয় বুদ্ধিবৃত্তি, না হয় জীববৃত্তির মধ্যে নিহিত। উপসংহারঃ যৌক্তিক সংজ্ঞার লক্ষ্য হচ্ছে একটি পদের জাত্যর্থকে সূস্পষ্ট করা। আর সূস্পতার ফলে একটি পদের অর্থ ও তাৎপর্য আমাদের কাছে সহজবোধ্য হয়।
 পাঠের শিরোনাম: চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকাঃ কোন পদের জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। সংজ্ঞাকে সঠিক হতে হলে কতকগুলো নিয়মের অধীনস্ত হতে হয়। আর এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে কতকগুলো অনুপপত্তি ঘটে। চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি তাদের মধ্যে অন্যতম।
চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তিঃ চক্রক সংজ্ঞা একটি ত্র“টিপূর্ণ সংজ্ঞা। সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়মটি লঙ্ঘন করলে এরূপ অনুপপত্তি ঘটে। তৃতীয় নিয়মটি হলো- যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সেই পদ বা তার প্রতিশব্দ সংজ্ঞায় ব্যবহার করা যাবে না। সংজ্ঞায় এ নিয়মটি অমান্য করে আমরা যদি কোন পদের সংজ্ঞা নির্ণয় করতে গিয়ে একই কথার পুনরুক্তি করি তাহলে সংজ্ঞাটি ত্র“টিপূর্ণ হবে এবং এরূপ সংজ্ঞা চক্রক সংজ্ঞা নামে পরিচিত। চক্রক সংজ্ঞায় আসলে পদ সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না। বরং একই কথা বুঝিয়ে বলা হয়।
উদাহরণ ও বিশ্লেষণঃ ‘সব মানুষ হলো মানব সন্তান’।
আলোচ্য ক্ষেত্রে ‘মানুষ’  পদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ‘মানব সন্তান’ হিসাবে। কিন্তু ‘মানব সন্তান’ পদ ‘মানুষ’ পদের সমার্থক। এখানে মানুষের কোন গুণকে উল্লেখ করা হয়নি বরং মানুষকে ‘মানব সন্তান’ বলে চালানো হয়েছে। এখন আবার ‘মানুষ’ পদের অর্থ সুনির্দিষ্ট করতে হলে ‘মানব সন্তান’ পদের সংজ্ঞা দেওয়া আবশ্যক। সে হিসাবে আলোচ্য সংজ্ঞার ক্ষেত্রে চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটেছে।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, কোন পদের সংজ্ঞায় সেই পদ বা তার প্রতিশব্দ ব্যবহার করলে চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটবে। 


পাঠের শিরোনাম:  যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমা আলোচনা কর।


ভূমিকাঃ কোন পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করাকেই যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে। কিন্তু যে সব ক্ষেত্রে সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয় তাই হলো সংজ্ঞার সীমা।

যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাঃ কোন পদের সংজ্ঞা দানের সময় পদের আসন্নতম জাতি ও তার বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু কতকগুলো ক্ষেত্র আছে যেখানে এভাবে সংজ্ঞা দান সম্ভব নয়। নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হলোঃ
    ১. পরমতম জাতিঃ পরমতম জাতি বা বৃহত্তম জাতির আসন্নতম জাতি নেই বলে তাকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। যেমন- ‘দ্রব্য’। ‘দ্রব্যের’ আসন্নতম জাতি নেই বলে তার সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
    ২. স্বকীয় নামবাচক পদঃ স্বকীয় নামবাচক পদগুলো অজাত্যর্থক বলে তাদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। যেমন- ঢাকা, করিম ইত্যাদি। এসব নাম নির্দেশিত ব্যাক্তি বা বস্তুর বিভেদক লক্ষণ নির্ণয় করা সম্ভব নয় বলে এদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
    ৩. বিশিষ্ট গুণবাচক পদঃ বিশিষ্ট গুণবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। যেমন- সততা, সত্যবাদিতা, মিষ্টত্ব ইত্যাদি। এই পদগুলো এতই সরল যে, এদের অর্থকে আর পরিস্কার করা যায় না। কাজেই এদের সংজ্ঞা দান সম্ভব নয়।
    ৪.  অনন্য পদঃ  অনন্য পদের জাত্যর্থ নেই বলে এর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। যেমন- দেশ, কাল  ইত্যাদি। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করা যায় না বলে এদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
    ৫. বিশিষ্ট বস্তুঃ বিশিষ্ট বস্তুর অসংখ্য বৈশিষ্ট থাকলেও, এর সব বৈশিষ্ট নির্ণয় করা যায় না। এ কারণে বিশিষ্ট বস্তুর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। যেমন- পদ্মা, তাজমহল ইত্যাদি।
    ৬. মৌলিক অনুভূতিঃ ব্যাক্তি বিশেষের মৌলিক অনুভূতির সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। যেমন- সুখ, দুঃখ, আনন্দ,বেদনা, প্রেম, বিরহ ইত্যাদি। এই গুণগুলো অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না বিধায় এদের সংজ্ঞা সম্ভব নয়।                    
    ৭. পরম নিয়মঃ পরম নিয়ম হলো ব্যাপকতর নিয়ম। এদের তুলনায় কোন ব্যাপকতর নিয়ম নেই বলে, এর আসন্নতম জাতি নেই। তাই পরম নিয়মের কোন সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
উপসংহারঃ উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে বর্ণিত সমস্যার কারণে যৌক্তিক সংজ্ঞা নির্দেশ করা সম্ভব হয় না। এগুলো হলো যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমা। 


পাঠের শিরোনাম: যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য দেখাও। 

ভূমিকাঃ যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপনের পূর্বে আমাদের জানা প্রয়োজন সংজ্ঞা ও বর্ণনা কি বা কাকে বলে? কোন পদের জাত্যর্থের সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করাকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে, আর কোন পদের উপলক্ষণ অথবা অবান্তর লক্ষণ অথবা জাত্যর্থের অংশ বিশেষের সাথে এগুলো মিশিয়ে উল্লেখ করাকে বর্ণণা বলে।
উদাহরণ স্বরূপঃ মানুষের সংজ্ঞা – “মানুষ হয় এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন জীব।”
                       মানুষের বর্ণনা – “ মানুষ হয় এক প্রকার পক্ষবিহীন দ্বিপদ জীব।”
যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে পার্থক্যঃ সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে নিম্নের পার্থক্যগুলো লক্ষণীয়। যেমন-
১. সংজ্ঞায় একটা পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু বর্ণনার ক্ষেত্রে উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষন বা উভয়কেই উল্লেখ করা হয়।
২. সংজ্ঞা হল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া কারণ সংজ্ঞার মাধ্যমে কোন পদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা সম্ভব। আর বর্ণনার মাধ্যমে কোন বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা লাভ করা যায়। সে হিসাবে বর্ণনাকে বলা যায় লৌকিক প্রক্রিয়া।
৩. সব পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কিন্তু বর্ণনা দেওয়া যায়। যেমন, বিশিষ্ট নামের বিভেদক লক্ষণ নির্ণয় করা যায় না বিধায় সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কিন্তু যে কোন বিশিষ্ট নামের বর্ণনা দেওয়া যায়।
৪. সংজ্ঞা দেওয়া হয় কোন পদের। কিন্তু বর্ণনা দেওয়া হয় কোন বিষয় বা বস্তুর। সংজ্ঞা পদের সাথে সম্পর্কীত।
৫. একটা পদের অর্থ সুনিদিষ্ট বলে, কোন পদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু, একটা বস্তুকে নানাভাবে বর্ণনা দেওয়া যায় বলে, কোন বস্তুর একাধীক বর্ণনা হতে পারে।
৬. সংজ্ঞায় আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয় বলে সংজ্ঞা তুলনামূলকভাবে জটিল প্রক্রিয়া। কিন্তু, বর্ণনায় তা করতে হয় না বলে তুলনামূলকভাবে সহজ সরল প্রক্রিয়া।
৭. সংজ্ঞায় সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু বর্ণনায় সুনিদিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয় না।
৮. সংজ্ঞায় নিয়ম অনুসরণ না করলে অনুপপত্তি ঘটে। কিন্তু বর্ণনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয় না বলে এখানে অনুপপত্তির প্রসঙ্গ অবান্তর।
৯. সংজ্ঞা সব সময় সদর্থক হবে। কিন্তু বর্ণনা যেমন সদর্থক হতে পারে, তেমনি নঞর্থক হতে পারে।
১০. সংজ্ঞেয় পদ ও সংজ্ঞার্থ পদের ব্যক্তর্থ সমান হতে হয়। কিন্তু বর্ণিত বিষয় ও বর্ণনার মধ্যে এরূপ কোন সম্বন্ধ থাকা অনিবার্য নয়।
উপসংহারঃ সংজ্ঞা ও বর্ণনার মাঝে উল্লেখিত পার্থক্যসমূহ থাকলেও যেসব পদের সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়, সেসব পদের বর্ণনার সাহায্য গ্রহণ করতে হয়।
  
সহায়ক গ্রন্হাবলীঃ
১. উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্য- ১ম পত্র (অবরোহ)
শরীফ হারুন
২. উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (অবরোহ)
প্রফেসর মোঃ গোলাম মোস্তফা
৩. উচ্চ মাধ্যমিক যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (অবরোহ)
প্রফেসর মোহাম্মদ নূরনবী।

বিঃ দ্রঃ- উক্ত পাঠে কোন রকম ভূল-ভ্রান্তি এবং অসঙ্গতি দেখলে অবশ্যই তা মন্ন্তব্যের ঘরে মন্তব্য করে জানাবেন।

 বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার : http://www.kamdc.com

Saturday, 8 August 2015

প্রত্নতত্ত্ব......

প্রত্নতত্ত্ব কী?
 অতীত যুগের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্য সামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সে যুগের মানুষের সমীক্ষা বা অধ্যয়নই হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব।


প্রত্নতত্ত্বের উৎস কী কী?
 প্রত্নতত্ত্বের নানাবিধ উৎস বিদ্যমান যা থেকে আমরা তথ্য পেতে পারি। যেমন:
১. সাহিত্য উৎস
২. মৌখিক উৎস
৩. যন্ত্রপাতি
৪. স্থানীয় জ্ঞান
৫. প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান
৬. সরকারি উৎস
৭. পূর্ব জরিপ


প্রত্নতত্ত্বের সময়কালের ভিত্তিতে সমাজের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ কর?
 পাঁচ (৫) ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
-    প্রাচীন প্রস্তর যুগ (১,০০,০০০ - ১০,০০০ অব্দ পর্যন্ত)
-    নব্য প্রস্তর যুগ (১,০০০ - ৩৫,০০০ অব্দ পর্যন্ত)
-    ব্রোঞ্জ যুগ (৩৫,০০০  - ১,৯০০ অব্দ পর্যন্ত)
-   তাম্র যুগ (১,৯০০ - ১,৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)
-    লৌহ যুগ (১,৫০০ খ্রি: মধ্যপ্রাচ্যে সূচনা হয়)


-আশরাফুল ইসলাম সায়ান।

পলাশীর যুদ্ধ.....

একটি ট্র্যাজেডিমূলক অধ্যায়। মূলত: একটি ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধ। যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার চরম পরিচয় দেন মীর জাফর আলী খান, জগৎশেঠ, রায় দূর্লভ, রাজ বল্লভ, কৃষ্ঞচন্দ্র, উঁমি চাঁদ, ঘসেটি বেগম ও শওকত জঙ্গ এর মত মানুষেরা। তাদের সহায়তায় নাম মাত্র যুদ্ধে প্রায় বিনা বাধায় জয়ী হয় রবার্ট ক্লাইভের সৈন্যদল। যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ দৌলা-র সহায়তা করেন মীর মদন, মোহন লাল, ফরাসী সেনাপতি সিনফ্রে সহ আরো অনেকে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আ¤্রকাননে যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের পক্ষে সেনাপতি ছিলেন মীর জাফর। যদিও ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে সেনাধ্যক্ষ পরিবর্তন করে আব্দুল হাদী খান কে নিযুক্ত করেন। কিন্তু মীর জাফর পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে শপথ করায় নবাব তার সিদ্ধান্ত আবার পরিবর্তন করেন। আর মীর জাফরের কূট কৌশলে পরাজিত হয় নবাব বাহীনি। যুদ্ধে বিজিত হওয়ার পর পাটনার উদ্দেশ্যে গমন কালে মীর কাশিম কর্তৃক নবাব ধৃত হন। এবং পরে ১৭৫৭ সালের ২৯ জুন মীর জাফরের পুত্র মীরনের আদেশে মোহাম্মদী বেগ নবাব সিরাজ উদ দৌলা বিন জয়নুদ্দিন কে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। তার পর ১৭৫৭ সাল হতে ১৭৬৫ সাল পর্র্যন্ত মীর জাফরের পরিবার নাম মাত্র ক্ষমতাবলে বাংলা শাসন করেন। পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরাসরি ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে নেয়। আর এভাবেই অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতা সূর্য।

-আশরাফুল ইসলাম সায়ান।