Showing posts with label History. Show all posts
Showing posts with label History. Show all posts

Tuesday, 15 September 2015

বিজিবি’র ইতিহাস

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি আধাসামরিক সংস্থা এর কাজ হল মূলত বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করা এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৭৯৪ সালে ফ্রন্টিয়ার প্রটেকশন ফোর্স গঠন করে ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন এর নাম পরিবর্তন করে (বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায়) রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন করা হয় সৈন্যসংখ্যা ছিল ৪৪৮ ছয় পাউন্ড গোলা, চারটি কামান এবং দুটি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল নিয়ে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয় কাজ শুরু করে
 
কালের বিবর্তনে এই বাহিনী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ধারন করেছে, ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে এক হাজার ৪৫৪ জন জওয়ান নিয়ে ফ্রন্টিয়ার গার্ডস গঠিত হয় এরপর ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে নামকরন হয় বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ বাহিনীকে চারটি কোম্পানিতে ভাগ করা হয় এর স্থায়িত্বকাল ছিল ১৯১৯ সাল পর্যন্ত এরপর ১৯২০ সালে এসে এই বাহীনির নামকরন করা হয় ইস্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার রাইফেল্স যা ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্স নামে পরিচিতি লাভ করে এর সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয় ইপিআর

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের মার্চ ইপিআর বাহিনীকে পুনর্গঠন করে এর নাম রাখা হয় বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ১৯৮০ সালের মার্চ থেকে বাহিনীর স্বীকৃতি হিসেবে সরকার একে জাতীয় পতাকা প্রদান করে ১৯৯৭ সালের ১৬ মার্চ বিডিআর বাহিনীর জন্য তিন রঙের সংমিশ্রণে ছাপা কাপড়ের ইউনিফর্মের প্রবর্তন করা হয়

২০০৯ সালে পিলখানা সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের বিভীষিকাময় নারকীয়  হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে বিডিআর ২১৫ বছরের গৌরবময় অধ্যায়ের ছন্দপতন ঘটে বাহিনীর নাম পোশাক পরিবর্তন করে নতুন আইনও প্রবর্তন করা হয় পরিশেষে, ২৩ জানুয়ারি ২০১১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবির পতাকা উত্তোলন করেন এর নতুন নাম হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)

Wednesday, 9 September 2015

বাবর (১৪৮৩-১৫৩০)

বাবর (১৪৮৩-১৫৩০)

ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রকৃত নাম জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর। তুর্কি ভাষায় ‘বাবর’ শব্দের অর্থ সিংহ। বাবর ১৪৮৩ সালে মধ্য এশিয়ার ফারগানা রাজ্যের রাজধানী আন্দিজানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ওমর শেখ মির্জা।
বাবর মোগল সম্রাট তৈমুর লংয়ের বংশধর। পিতার মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার অনেক নিকটাত্মীয় তাকে ষড়যন্ত্র করে সিংহাসনচ্যুত করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাবর সবাইকে পরাজিত করে নিজেকে সিংহাসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ১৫০৪ সালে তিনি কাবুল জয় করেন এবং ‘বাদশাহ’ উপাধি ধারণ করেন।
১৫২৬ সালে বাবর দিল্লির অদূরে পানিপথ প্রান্তরে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন দখল করেন। ইতিহাসে এ যুদ্ধ পানিপথের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
বাবরের সাম্রাজ্য পশ্চিমে হীরা (বাহরা) থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে চান্দেরী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
বাবর শুধু বীরযোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প-িত ও সঙ্গীতজ্ঞ। তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় তিনি অনেক কবিতা রচনা করেছেন। তার আত্মজীবনী ‘তুযুক-ই-বাবর’ সাহিত্য ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। জ্ঞানানুশীলন, ধর্মভক্তি, সঙ্গীতানুরাগ, প্রকৃতিপ্রেম, সৌন্দর্যপ্রেম, সৌন্দর্যপ্রীতি তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল।
শাসক হিসেবে বাবর ছিলেন উদার এবং অসাম্প্রদায়িক। ১৫৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাবরের মৃত্যু হয়। প্রথমে তাকে আগ্রায় সমাহিত করা হয়। কিন্তু পরে তার অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী তার কবর কাবুলে স্থানান্তর করা হয়।

Saturday, 8 August 2015

পলাশীর যুদ্ধ.....

একটি ট্র্যাজেডিমূলক অধ্যায়। মূলত: একটি ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধ। যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার চরম পরিচয় দেন মীর জাফর আলী খান, জগৎশেঠ, রায় দূর্লভ, রাজ বল্লভ, কৃষ্ঞচন্দ্র, উঁমি চাঁদ, ঘসেটি বেগম ও শওকত জঙ্গ এর মত মানুষেরা। তাদের সহায়তায় নাম মাত্র যুদ্ধে প্রায় বিনা বাধায় জয়ী হয় রবার্ট ক্লাইভের সৈন্যদল। যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ দৌলা-র সহায়তা করেন মীর মদন, মোহন লাল, ফরাসী সেনাপতি সিনফ্রে সহ আরো অনেকে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আ¤্রকাননে যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের পক্ষে সেনাপতি ছিলেন মীর জাফর। যদিও ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে সেনাধ্যক্ষ পরিবর্তন করে আব্দুল হাদী খান কে নিযুক্ত করেন। কিন্তু মীর জাফর পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে শপথ করায় নবাব তার সিদ্ধান্ত আবার পরিবর্তন করেন। আর মীর জাফরের কূট কৌশলে পরাজিত হয় নবাব বাহীনি। যুদ্ধে বিজিত হওয়ার পর পাটনার উদ্দেশ্যে গমন কালে মীর কাশিম কর্তৃক নবাব ধৃত হন। এবং পরে ১৭৫৭ সালের ২৯ জুন মীর জাফরের পুত্র মীরনের আদেশে মোহাম্মদী বেগ নবাব সিরাজ উদ দৌলা বিন জয়নুদ্দিন কে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। তার পর ১৭৫৭ সাল হতে ১৭৬৫ সাল পর্র্যন্ত মীর জাফরের পরিবার নাম মাত্র ক্ষমতাবলে বাংলা শাসন করেন। পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরাসরি ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে নেয়। আর এভাবেই অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতা সূর্য।

-আশরাফুল ইসলাম সায়ান।

ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস.......

এশিয়া মহাদেশের মধ্য দক্ষিণে অবস্থিত ভারতবর্ষ পৃথিবীর বৃহত্তম উপমহাদেশ। বিশাল আয়তন, বিপুল জনসংখ্যা, বৈচিত্রময় সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈচিত্রের দরুন একে উপমহাদেশ আখ্যা দেয়া হয়। জনশ্রুতি আছে যে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলের একজন শাসনকর্তা ছিলেন রাজা ভরত। তার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয় ভারত। অনেকের মতে সিন্ধু নদ কে গ্রীকরা বলত ইন্ডাস। আর ঐ ইন্ডাস থেকেই ইন্ডিয়া নামের উৎপত্তি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আধিক্য হেতু মধ্যযুগের মুসলিম লেখকরা একে হিন্দুস্তান বলে অভিহিত করেন। ভারত, ইন্ডিয়া বা হিন্দুস্তান সব নামেই এই উপমহাদেশটি পরিচিত। ভারতবর্ষের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্বে হিমালয়। দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে ব্রহ্মদেশ বা মায়ানমার এবং পশ্চিমে পারস্য (ইরান) ও আরব সাগর অবস্থিত। এ অঞ্চলের প্রাচীনতম অধিবাসী হল দ্রাবিড় (উৎধারফ) জাতি। কালক্রমে আর্য, শক, কুষান, হুন গন এখানে বসতি স্থাপন করে। এ ভারতবর্ষে বহু জাতি, বহু ধর্ম, বহু ভাষাভাষী মানুষের সমাগম। এক সাথে এত বৈচিত্র পৃথিবীতে বিরল। এ অঞ্চলে হিন্দু (সনাতন) ধর্ম  ও ইসলাম ধর্মের আধিক্য থাকলেও বিপুল পরিমানে বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান, শিখ, জৈন, অগ্নি উপাসক সহ অন্যান্য অনেক ধর্মের অনুগামী বর্তমান। ভারতবর্ষে দুই’শর অধিক উপভাষা (উরধষবপঃ) প্রচলিত আছে। কাল বিভাজন অনুযায়ী ভারত বর্ষে
-    প্রাচীন যুগ- মুসলীম বিজয়ের পূর্বে ভারতের বৌদ্ধ ও হিন্দুদের শাসন
-   মধ্যযুগ- সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের পর থেকে মুঘল শাসনের শেষার্ধ
-    আধুনিক যুগ- ১৭৫৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সময়কে বিবেচনা করা হয়।
১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত উপমহাদেশ ভেঙ্গে দুটি স্বতন্ত্র দেশ (পাকিস্তান ও ভারত) এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙ্গে দুটি স্বাধীন দেশ (বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) সৃষ্টি হয়। যদিও আজ ভারত বর্ষের বুক চীরে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বয়ে গেছে, তথাপি ও বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান দেশ ত্রয়কে একত্রে আজো ভারত উপমহাদেশ বলে আখ্যা দেয়া হয়।

- আশরাফুল ইসলাম সায়ান।